শিবচরে মধ্যযুগীও কায়দায় নারী ও শিশু নির্যাতন !!

পৈতৃক সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় প্রথমে ১০০ বেত্রাঘাত, পরে আবার পিটিয়ে আহত করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ, অসহায় পরিবার ঘরছাড়া।

গত ২৯-১২-২০১৭ তারিখে  ঘটনাটি ঘটিয়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বহেরাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দার হাওলাদার। যাদুয়ারচরের বাসিন্দা মিন্টু মাদবরের ইস্ত্রী, কিশোরী মেয়ে ও ছেলেসহ মিন্টুকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত পা ভেঙে মাথা ফাটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। তার উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে মিন্টুকে জেলে পাঠায়। মিন্টু একজন গরীব সাধারণ দিনমজুর শিক্ষা বঞ্চিত এবং দিন আনে দিন খায়। 

স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতাল সংলগ্ন মিন্টুর একটি জমির উপর চেয়ারম্যান হায়দার এর লোলুপ দৃষ্টি পরে কয়েক বছর আগেই। চেয়ারম্যান একাধিকবার উক্ত জমিটি বিনামূল্যে তার নামে লিখে দিতে বলেন। কিন্তু মিন্টু জমিটি দিতে রাজি না হলে শুরু হয় হুমকি, নানারকম ষড়যন্ত্র ও অত্যাচার। 
নিজের পোষ্য কর্মী শাহালম, নাসির, খোকন, রুহু, সাগর, শামীম, আবুলসহ আরো অনেককে লেলিয়ে দেন মিন্টুর পিছনে। এরা মিন্টুকে মারধর করে নিজ ভিটেবাড়ি থেকে পরিবারসহ তাড়িয়ে দিয়ে বাড়ির জমি দখল করে নেয় এবং হাসপাতাল সংলগ্ন জমিটিও দখল করে নেয়। অসহায় মিন্টু ভয় পেয়ে পুনরায় বাড়িতে ফেরার সাহস না পেয়ে নিজের ও পরিবারের প্রাণ বাঁচাতে জন বিচ্ছিন্ন একটি ফাঁকা জায়গায় ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘর তুলে বসবাস করতে থাকে। 
কিন্তু তাতেও রক্ষা নেই জোর দখল করা বাড়ির ও উক্ত হাসপাতাল সংলগ্ন জমি দলিল করে দেয়ার জন্য শুরু হয় নতুন অত্যাচার। নানাভাবে হুমকি ধামকি মারধর সহ রাতের অন্ধকারে ঘরের বাইরে পানির কলসি, বদনা এমনকি পানির টিউবয়েল এর মধ্যে ঝাল মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে পুরো পরিবারকে। এতেও জমি লিখে দিতে রাজি না হলে উক্ত চেয়ারম্যান হায়দার মিথ্যা বিচারের নাটক সাজিয়ে ১০০ একশত বেতের বাড়ি মেরে অর্ধ মৃত করে ফেলে রাখে মিন্টুকে কয়েক দিন পর মিথ্যা বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে চেয়ারম্যান বলে আমার ভুল হয়েছে, কোনো অনুশোচনা বা ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা পুনরায় শুরু করে নতুন ষড়যন্ত্র। 
বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা গ্রহণ না করায় মাদারীপুর কোর্টে মামলা করা হলেও উক্ত চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে নানা কৌশলে এমনকি আদালতে হাজিরার দিন আটকে রেখে আদালতে অনুপস্থিত দেখিয়ে মামলাটি ধামাচাপা দিয়ে দেন. 
অনেক বার থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ গিয়ে পুলিশি কায়দায় তদন্ত না করে চেয়ারম্যান হায়দার এর মিথ্যা বক্তব্য শুনে চলে আসে. কাকতালীয় ভাবে প্রতিবারেই তদন্ত ভার পায় থানার এস আই রফিকুল ইসলাম যার সাথে উক্ত চেয়ারম্যান এর বিশেষ সখ্য রয়েছে। এমতাবস্থায় মিন্টুর পরিবারের আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব বাড়তেই থাকে।
সর্বশেষ গত ২৯-১২-২০১৭ তারিখে মিন্টুসহ তার স্ত্রী, কিশোরী মেয়ে, ও ছেলেকে বেধড়ক মেরে হাত পা ভেঙে মাথা ফাটিয়ে হাসপাতালে পাঠায় এবং আহত মিন্টুকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠায়। মিন্টুর নামে অভিযোগ তার পরিবার অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করেছে। আগেই বলেছি মিন্টু একজন গরীব দিনমজুর তার পক্ষে প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করা সম্ভব নয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পুরো পরিবার ভিটেছাড়া। নিরপরাধ মিন্টু জেলখানায়।

এটাই কি সত্যিকারের মঘের মুল্লুক? 
সুবোধ কি সত্যি দেশ ছেড়ে পালিয়েছে?

কে এই হায়দার?

মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বহেরাতলা উনিয়নের মৃত জয়নাল ডাক্তারের সাত ছেলের মধ্যে বড় ছেলে এই হায়দার। বংশ পরম্পরায় কট্টর পন্থী বিএনপি হলেও কয়েক বছর পূর্বে খোলস বদলে আওয়ামীলীগের লেবাস ধারী এই ব্যাক্তি নিজ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন অনেক বছর আগে থেকে। নির্যাতন ও প্রাণ ভয়ে এলাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। ত্রাসের রাজত্ব স্থায়ী করার জন্য নিজে আওয়ামীলীগে যোগ দিলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে বিএনপি'র পদও ধরে রেখেছেন এই হাইব্রিড আওয়মীলীগ হায়দার আলী.

বিষয়:   জাতীয়   স্থানীয় সংবাদ       শুক্রবার ৫ জানুয়ারী, ২০১৮